বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চলতি সপ্তাহে ভারতের উদ্দেশে সফর করবেন। সফরের মূল লক্ষ্য হবে গঙ্গার পানি বণ্টন, জ্বালানি সহযোগিতা, ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক করা এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটি বাংলাদেশের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর। ঢাকা সূত্রে জানা গেছে, সফরটি সম্ভবত ৭ ও ৮ এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। সফরের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক গত রোববার (৫ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন জরুরি। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ১৫ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ সংক্রান্ত উপকমিটির কাজ খুব একটা এগোয়নি। তবে নবনির্বাচিত সরকার চুক্তির সময়সীমা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের আগেই সম্পন্ন করতে আগ্রহী। বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, ঢাকায় টেকনিক্যাল কমিটি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি নবায়নের আগে একটি সাময়িক নবায়নের পথও নেওয়া হতে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কারণে গঙ্গার পানি বণ্টন রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় হয়ে উঠেছে। খলিলুর রহমান দিল্লি থেকে মরিশাসে ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’-এ যাওয়ার পথে ট্রানজিট হিসেবে বৈঠক করবেন। এই সফরে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দিল্লিতে অবস্থানরত কূটনীতিকদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। ১০ মার্চ ভারত ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে ৫,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছে। ২ এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকারের ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ বিবেচনাধীন রয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করা ঢাকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।