মৃত্যু-এটি সকল মানুষের জীবনে নিশ্চিত এক সত্য। তবে যারা জীবন জুড়ে ঈমান, সৎকর্ম ও তাকওয়া নিয়েছেন, তাদের কেন মৃত্যুর সময় কষ্ট হয় এটি অনেকের মনে প্রশ্ন জাগায়। ইসলামের শিক্ষায় দেখা যায়, নবী করিম (সা.) নিজেও মৃত্যুর সময় শারীরিক কষ্ট ভোগ করেছেন।
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবী করিম (সা.) মুমূর্ষ অবস্থায় একটি পানির বাটিতে হাত ডুবিয়ে মুখমণ্ডল পরিষ্কার করতেন এবং প্রার্থনা করতেন, হে আল্লাহ, মৃত্যুর কষ্ট ও যন্ত্রণা হ্রাসে সহায়তা করুন। এই ঘটনা দেখায়, মৃত্যুকষ্ট কোনো শাস্তি নয়, বরং মুমিনের জন্য পরিশুদ্ধি ও মর্যাদার একটি বিশেষ পরীক্ষা।
আরেকটি হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) একজন মৃত্যুপথের প্রতিবেশীর যন্ত্রণার দিকে দেখার সময় বলেছেন, এ ক্ষেত্রে চিন্তা করার কিছু নেই, কারণ এটি সৎকর্মের অংশ। অর্থাৎ মুমিনের মৃত্যুকষ্ট তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং ধৈর্য্য প্রদর্শনের সুযোগ দেয়।
সুনানে আবি দাউদে বর্ণিত, যখন আল্লাহ কোনো মুমিনকে আখিরাতের উচ্চ মর্যাদা দিতে চান এবং সে নিজ আমল দিয়ে তা অর্জন করতে পারে না, তখন তিনি শরীর, সম্পদ বা সন্তানদের মাধ্যমে পরীক্ষার মুখোমুখি করেন। মুমিন ধৈর্য ধারণ করলে নির্ধারিত মর্যাদার স্তরে পৌঁছায়।
অতএব, মৃত্যুর কষ্ট শাস্তি নয়, বরং অনুগ্রহ ও পরিশুদ্ধির প্রক্রিয়া। এই সময় মুমিনের গুনাহ মাফ হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং আখিরাতে উচ্চ স্থান লাভ হয়।
বিশ্বাসী ব্যক্তি যদি এই বাস্তবতা বোঝে, তবে মৃত্যুর সময় ধৈর্য্য ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। মৃত্যুর এই মুহূর্তও তাকে কল্যাণময় ও সাফল্যময় পথের দিকে পরিচালিত করে।
মৃত্যুকষ্ট মুমিনের জন্য শাস্তি নয়। এটি মর্যাদা, পরিশুদ্ধি এবং আখিরাতের প্রস্তুতি। ঈমান ও ধৈর্য্য ধারণ করে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া এটি সত্যিকারের বিশ্বাসের পরিচয়।