গত মার্চ মাসে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি। ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ২২২টি, এতে ২৩৭ জন নিহত ও ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত।
নিহত ও আহতদের মধ্যে ৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৫৭ জন চালক, ৯০ জন পথচারী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬৮ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক, ৭৮ জন নারী, ৮৬ জন শিশু, ৩ জন চিকিৎসক, ৪ জন সাংবাদিক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন আইনজীবী এবং ১৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।
মোট ৯৭৫টি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ২৬.৭৬%, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি ২১.৬৪%, বাস ১৩.৮৪%, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১৪.৫৬%, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ৭.২৮%, নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা ৮.৪১%, এবং কার-জিপ-মাইক্রোবাস ৭.৪৮%।
দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী, ৩২.৪৬% গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার কারণে, ৩৭.৬৬% মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১.৪২% নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ৭.১৪% বিবিধ কারণে, ০.৩২% চাকায় ওড়না পেছানো এবং ০.৯৭% দুর্ঘটনা ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।
অবস্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে, ৪০.৯০% জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৩% আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২.০৭% ফিডার রোডে, ৫.৫১% ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৮% চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৯৭% রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। এই তথ্য যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে সংগৃহীত।