রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি এই ঘটনায় ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী সংশ্লিষ্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ভবনটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করেন এবং নিরাপত্তা বিধি না মেনে গ্যাস সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক ওভেন ব্যবহার করছিলেন। তাদের এমন অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।
এ ঘটনায় মোট ২২ জনকে আসামি করা হলেও ৪ জনকে দায়মুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন এবং বাকি দুজনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে বেইলি রোডের ওই ভবনে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে ৪৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ১১ জন, আর জীবিত উদ্ধার করা হয় ৭৫ জনকে।
ঘটনার পরদিন রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। মামলায় অবহেলা, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা পরিচালনা এবং তার ফলে প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয়।