মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর, যার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে Bangladesh।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম The Independent এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ তেল সংকটে মারাত্মক অবস্থার মুখে পড়তে পারে।
United States, Israel ও Iran এর মধ্যে চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়ে গেছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি পরিবহন বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পথ দিয়ে এশিয়ার বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়।
রাজধানী Dhaka সহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকটের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অনেক স্থানে পাম্পে তেল কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। কিছু এলাকায় যানবাহনের সংখ্যা কমে এসেছে এবং স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের একমাত্র শোধনাগার Eastern Refinery Limited এ মজুত অপরিশোধিত তেল দিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহের চাহিদা পূরণ সম্ভব।
অন্যদিকে ডিজেলের মজুতও দ্রুত কমছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, এটি ৯ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ছিল।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি রেশনিং, ডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ।
একই সঙ্গে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে Singapore, Malaysia, Nigeria ও Azerbaijan উল্লেখযোগ্য।
যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদিন চলবে এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল কবে ফিরবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি পর্যায়ে সংকট অস্বীকার করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস, মজুত বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব বাড়ানো জরুরি।