মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে Saudi Arabia থেকে নতুন করে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল কেনা হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা একটি তেলবাহী জাহাজের জটিলতা কাটাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে বহন করা ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল Strait of Hormuz এলাকায় আটকা রয়েছে। জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় বাংলাদেশে আসতে পারছে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজটি ছাড় করাতে Iran এর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের আশাবাদ রয়েছে।
এই জটিলতা এড়াতে নতুন চালান আনা হচ্ছে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে। এই রুটটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় পরিবহনে ঝুঁকি কম।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এপ্রিলের শেষ দিকে তেল জাহাজে তোলা হবে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তা Chattogram বন্দরে পৌঁছাতে পারে।
এই দুই চালান মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল দেশে এলে তা Eastern Refinery Limited এ পরিশোধন করা হবে।
পরিশোধনের পর পাওয়া যেতে পারে
- প্রায় ৫২ হাজার টন ডিজেল
- ৩২ হাজার টন পেট্রোল
- ১৬ হাজার টন অকটেন
- ৪৮ হাজার টন ফার্নেস অয়েল
- ৪২ হাজার টন কেরোসিন
সরকার ইতোমধ্যে বিকল্প উৎস থেকে একাধিক জাহাজে তেল আমদানি করছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিমাণ তেল এলে বর্তমান সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে বাড়তি চাহিদা মেটাতে ভবিষ্যতে আরও আমদানির প্রয়োজন হতে পারে।