দীর্ঘ পাঁচ দশকের বিরতির পর আবারও চাঁদের অভিমুখে মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। নতুন এই অধ্যায়ের সূচনা করেছে NASA, যারা সফলভাবে ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের মাধ্যমে চার নভোচারীকে মহাকাশে পাঠিয়েছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের Kennedy Space Center থেকে বিশালাকৃতির রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের সময় হাজারো মানুষ এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেন।
এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন Reid Wiseman, Victor Glover, Christina Koch এবং কানাডার Jeremy Hansen। প্রায় ১০ দিনের এই সফরে তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই মিশন কমান্ডার জানান, তারা মহাকাশ থেকে চাঁদের অসাধারণ দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন এবং নির্ধারিত পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
এই মিশন কেবল একটি প্রদক্ষিণ নয়, বরং ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পরবর্তীতে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভবিষ্যৎ মহাকাশ অনুসন্ধানের ভিত্তি তৈরি করবে।
মিশনের শুরুতে নভোচারীরা পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম পরীক্ষা করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে মহাকাশযানটি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবে।
এই অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে একটি বিশেষ ‘ফ্রি রিটার্ন’ কক্ষপথ, যার মাধ্যমে চাঁদ ও পৃথিবীর অভিকর্ষ শক্তি কাজে লাগিয়ে মহাকাশযানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসতে পারবে।
মিশন শেষে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে। এই সময়টি পুরো অভিযানের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ অ্যাপোলো যুগ দেখেননি। তাই আর্টেমিস মিশন নতুন প্রজন্মের কাছে মহাকাশ অভিযানের নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, এই মিশনের সাফল্য ভবিষ্যতে আবারও চাঁদের মাটিতে মানুষের পদচারণার পথ খুলে দেবে।