দেশের রাজস্ব আদায়ে ধারাবাহিক ঘাটতি অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর, যা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এতে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছর ২০২৫-২৬ শুরু হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। যদিও একই সময়ে আগের বছরের তুলনায় আদায়ে ১২ দশমিক ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর এই তিনটি প্রধান খাতের কোনোটিতেই নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। এই সময়ে মোট আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে আয়করে। নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় এই খাতে আদায় কম হয়েছে ৩৩ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। কাস্টমস খাতেও ঘাটতি রয়েছে ১৭ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। ভ্যাট খাতেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি কমে গেছে। ফলে রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের ব্যয় নির্বাহ, ঋণ পরিশোধ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। তবে কাঠামোগত দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় কর সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং কর ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে গতি ফেরানো জরুরি। অন্যথায় আগামী বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে সরকার।