দেশে জ্বালানি সংকট নেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র হট্টগোল। সোমবার অনুষ্ঠিত সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা পাম্পে তেল না পাওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।
এদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। তার প্রশ্নে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তিনি দাবি করেন, জ্বালানি বিক্রি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইতোমধ্যে দেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা কী, তা জানতে চান।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সম্পূরক প্রশ্নটি মূল প্রশ্নের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। এই বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলীয় সদস্যরা সিট ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন, ফলে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানিতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, চলমান সংঘাতে ৫ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং ১৮৬ জনকে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তবে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তিনি নিজে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরেও তেল পাননি। একই ধরনের অভিযোগ করেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম, যিনি জানান, তার এলাকায় পাম্পে তেল সংকট থাকলেও বাইরে বেশি দামে বোতলে করে তেল বিক্রি হচ্ছে।
পরবর্তীতে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে। তার মতে, ফিলিং স্টেশনগুলোতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা প্রকৃত সংকট নয়; বরং যুদ্ধের আশঙ্কায় অতিরিক্ত কেনাকাটা ও মজুত প্রবণতার ফল।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং এপ্রিল মাসে আরও ৫০০ মেট্রিক টন অকটেন আমদানি করা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযানে ২ লাখ ৮ হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।