দেশের বাজারে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। খামারিদের দাবি, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং চাহিদা বাড়ার কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
গত এক বছরে দীর্ঘ সময় ধরে কম দামের কারণে ক্ষতির মুখে ছিলেন খামারিরা। তবে রমজান ও ঈদকে ঘিরে চাহিদা বাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন তারা।
খামার সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় পোল্ট্রি খামারে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ব্যাপক হারে মুরগি মারা গেছে। এতে সরবরাহ কমে গিয়ে বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
নরসিংদীর শিবপুর এলাকার খামারি আবু হানিফা জানান, তার অঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি খামার রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্রুত বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে খামার পর্যায়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯৮ টাকায়। অথচ ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল প্রায় ১৪৫ টাকা। জানুয়ারিতে ১৩৬ থেকে ১৪৫ টাকা, ডিসেম্বরে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং নভেম্বরে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
খামারিরা বলছেন, যদি এই দাম আরও কিছুদিন স্থিতিশীল থাকে, তাহলে আগের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয় খামারি মো. জহিতুল হক জানান, গত এক মাসে বাজার ভালো থাকলেও তার আগের সময়টা ছিল অত্যন্ত খারাপ। তার ভাষায়, অনেক খামারি এখন লাভে থাকলেও উচ্চ মৃত্যুহারের কারণে অনেকে এখনও ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন।
নারী উদ্যোক্তা জীবনা বেগম জানান, চলতি রমজানে তার খামার থেকে মুরগি বিক্রি করে ভালো মুনাফা পেয়েছেন, যা তিনি আগে আশা করেননি।
অন্যদিকে অভিজ্ঞ খামারি মো. রবিউল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষতির পর অবশেষে লাভের মুখ দেখছেন তারা। তার মতে, আশেপাশের অনেক খামারে রোগে মুরগি মারা যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে, আর সেই সুযোগেই দাম বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, পোল্ট্রি ব্যবসায় ধৈর্য ধরে টিকে থাকতে পারলেই শেষ পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব, কারণ বাজারে দামের ওঠানামা স্বাভাবিক একটি বিষয়।
এখনো কোনো মতামত নেই।