ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয় আরব দেশগুলোর মাধ্যমে ভাগাভাগি করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের একাধিক সূত্রের বরাতে ইঙ্গিত মিলেছে, এই ব্যয় কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, অতীতের উপসাগরীয় যুদ্ধের উদাহরণ সামনে রেখে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি জানান, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি চিন্তার অংশ, যেখানে আঞ্চলিক মিত্রদের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় জার্মানি, জাপানসহ একাধিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটকে অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছিল। সেই সময় প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়, যা বর্তমান মূল্যে ১৩৪ বিলিয়ন ডলারের সমান বলে জানা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একতরফাভাবে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়ায় আঞ্চলিক মিত্রদের সরাসরি সম্পৃক্ততা কম। ফলে অর্থায়ন নিয়েও নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ কিছু মন্তব্যকারীর মতে, ভবিষ্যৎ কোনো যুদ্ধবিরতি বা চুক্তিতে ইরানকে যুদ্ধের ব্যয় বহনের বিষয়ও আলোচনায় আনা হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানও দাবি করছে, তাদের ওপর চালানো হামলার ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই জবাবদিহি করতে হবে। পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে সামরিক ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, সামরিক অভিযানের অর্থায়ন ও পেন্টাগনের অস্ত্র ভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করতে কংগ্রেসের কাছে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত বাজেট চাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রশাসনের।
এখনো কোনো মতামত নেই।