দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটে থাকা ১২টি দুর্বল ব্যাংককে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত কয়েক বছরে এসব ব্যাংককে মোট ৬৮ হাজার ২৫০ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, এর মধ্যে সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময় দেওয়া হয় ১৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ড. আহসান এইচ মনসুরের দায়িত্বকালে আরও ৫১ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়, যা মোট সহায়তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ।
এই সহায়তা মূলত ৯০ দিনের স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে ১১.৫ শতাংশ সুদে ওভারনাইট সুবিধার আওতায় দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডিমান্ড প্রমিসরি নোট জমা দিয়ে এই সুবিধা গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আর্থিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কিছু ব্যাংকে বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সংকট মোকাবিলায় শুরুতে কিছু ব্যাংককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় পুনরায় বড় আকারে তারল্য সহায়তা দিতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সহায়তার মূল লক্ষ্য আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। ভবিষ্যতে ব্যাংক একীভূতকরণ, পুনর্গঠন ও নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু তারল্য সহায়তা নয়, ব্যাংক খাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য খেলাপি ঋণ আদায়, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আর্থিক খাতের সংস্কার জরুরি।
এখনো কোনো মতামত নেই।