আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণার বড় একটি অংশের অর্থ উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (Criminal Investigation Department (CID))।
সিআইডি জানিয়েছে, এমটিএফই (মেটারভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) নামের একটি প্রতারণামূলক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাচার হওয়া প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা, ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “MTFE Ponzi Scheme”-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে একজন ভুক্তভোগী প্রায় ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হন।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে এমটিএফই কার্যক্রম শুরু করে। ফেসবুক ও ইউটিউবে দ্রুত লাভের বিজ্ঞাপন দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হতো। ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ভুয়া মুনাফা দেখিয়ে বড় ধরনের প্রতারণা চালানো হয়।
সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে আস্থা তৈরি করা হলেও পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে চক্রটি হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।
বিশ্লেষণে উঠে আসে, এই অর্থের একটি অংশ আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে ব্লকচেইন বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আইনগত প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে একটি বিশেষ হিসাব খোলা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অর্থ ভুক্তভোগীদের মধ্যে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বাকি অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এখনো কোনো মতামত নেই।