বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন অবস্থান নিয়েছে ইরান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরান তাদের আলোচনার শর্ত তালিকায় প্রণালিটির ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির দাবি যুক্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই প্রণালিকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এখন এই প্রভাবকে অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তরের চেষ্টা করছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বা ফি আরোপের মতো ব্যবস্থা।
ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান দিনা এসফানদিয়ারির মতে, তুলনামূলক কম খরচে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরির সক্ষমতা ইরান এখন ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে এবং সেটিকে ভবিষ্যতের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের উদ্যোগকে অবৈধ ও বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে কোনো ধরনের টোল ব্যবস্থা গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হওয়ায় এখানে একক কোনো রাষ্ট্রের টোল আরোপের অধিকার নেই।
তবে ইরানের আইনপ্রণেতারা এমন একটি প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করছেন, যেখানে জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আদায়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পদক্ষেপ সফল হলে তা মিসরের সুয়েজ খালের মতো বড় আয়ের উৎসে পরিণত হতে পারে, যদিও আন্তর্জাতিক আইনি বাধা ও রাজনৈতিক চাপ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।
এখনো কোনো মতামত নেই।