মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজার গুলোতেও নেমেছে বড় ধস।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে Brent Crude Oil–এর দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার অতিক্রম করেছে, যা চলতি মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ Strait of Hormuz দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়া। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ হয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf জানিয়েছেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে তার দেশ। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি পড়েছে আর্থিক বাজারে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও লেবানন সীমান্তে সংঘাত বাড়ার কারণে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ না সরালে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। যদিও কূটনৈতিকভাবে সমাধানের কিছু প্রচেষ্টা চলছে, তবে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন খুব কম সংখ্যক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।