ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত এক মাসে গড়াতেই নতুন চাপে পড়েছে ইসরাইল। হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক রকেট হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এখন একাধিক দিক থেকে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে দেশটি।
সরকারি বক্তব্যে ইসরাইল নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী দাবি করলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ মোকাবিলায় সরকারের সুস্পষ্ট কৌশল নেই এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নে অতিরঞ্জন করা হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে উত্তর দিক থেকে হিজবুল্লাহ এবং দক্ষিণ দিক থেকে হুথিদের হুমকি যুক্ত হওয়ায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ।
প্রতিরক্ষায় ‘রেশনিং’ কৌশল
এই চাপ সামাল দিতে ইসরাইল এখন আকাশ প্রতিরক্ষায় বাছাই করা কৌশল গ্রহণ করেছে। সামরিক বাহিনী কেবল সেই সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে, যেগুলো জনবহুল এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে—এমন মিসাইল অনেক ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
মজুত কমে আসার শঙ্কা
প্রতিনিয়ত হামলা ঠেকাতে গিয়ে ইসরাইলকে তাদের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে। ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত এসব ইন্টারসেপ্টরের প্রতিটির খরচই বেশ বেশি, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চলায় মজুতের ওপর চাপ বাড়ছে।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে তেলআবিব। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সহায়তা ও সরঞ্জাম পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে একই সময়ে একাধিক সংঘাতে জড়িত থাকায় ওয়াশিংটনের নিজস্ব মজুত নিয়েও চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ফাঁক?
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চাপ এবং সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতাই এর পেছনে প্রধান কারণ।
এদিকে প্রতিরক্ষা শিল্পখাত উৎপাদন বাড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও কাঁচামাল ও সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতায় দ্রুত চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই।