লিবিয়া থেকে নৌকায় করে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায় সাগরে পথ হারিয়ে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়েছেন সুনামগঞ্জের ১০ তরুণ। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ঘটনাটি সামনে আসে। প্রাথমিক তথ্য বলছে, একই ঘটনায় মোট ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। দিরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কয়েকজন এবং জগন্নাথপুরের একাধিক গ্রামের তরুণ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
ঘটনা থেকে জীবিত ফিরে আসা এক ব্যক্তি জানান, লিবিয়া থেকে মোট ৪৩ জন যাত্রা শুরু করেন। বড় জাহাজে নেওয়ার কথা বলে তাদের একটি ছোট নৌকায় তোলা হয়। যাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগই বাংলাদেশি ছিলেন।
দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে নৌকায় থাকা খাদ্য ও পানির মজুত শেষ হয়ে যায়। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে একে একে ২২ জন মারা যান। পরে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন বেঁচে থাকা যাত্রীরা।
এদিকে গ্রীসের উপকূলের কাছে উদ্ধার অভিযানে এক নারী ও শিশুসহ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যাই বেশি।
নিহতদের স্বজনরা জানান, ইউরোপ যাওয়ার আশায় দালালের মাধ্যমে বিপুল অর্থের বিনিময়ে তারা বাড়ি ছাড়েন। কয়েকটি দেশ ঘুরে লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জীবিত ফেরা এক ব্যক্তির মাধ্যমে মৃত্যুর খবর আসে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এখনো কোনো মতামত নেই।