দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্বল তদারকি ও ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হলেও কার্যকর প্রতিরোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
সাম্প্রতিক ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দুর্ঘটনার চিত্র পরিস্থিতির অবনতি আরও স্পষ্ট করেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের আগে ও পরে ১৭ থেকে ২৬ মার্চ এই ১০ দিনে দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৭৪ জন। গত বছরের একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।
এ সময়ের কয়েকটি বড় দুর্ঘটনা পরিবহন খাতের দুর্বল দিকগুলো সামনে এনেছে। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একটি দুর্ঘটনায় ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, বিকল বাস থেকে নেমে যাত্রীরা রেললাইনে অবস্থান করছিলেন।
এর আগে কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যানের অনুপস্থিতি প্রশ্নের জন্ম দেয়। অন্যদিকে, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ঘাট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সামনে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এসবই দুর্ঘটনার বড় কারণ। পুলিশের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেপরোয়া গতি।
রেলপথেও ঝুঁকি কম নয়। দেশে অধিকাংশ লেভেলক্রসিং অরক্ষিত এবং গেটম্যান সংকট রয়েছে। একইভাবে নৌপথে ঘাট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, রেলিংয়ের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকায় দুর্ঘটনা কমাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
তাদের মতে, কঠোর নজরদারি, প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।
এখনো কোনো মতামত নেই।