টানা চার সপ্তাহ ধরে আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কারণ দেখিয়ে মুসল্লিদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে জেরুজালেমের পুরনো শহর ও আল-আকসার প্রবেশপথে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় সাধারণ মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
শুধু তাই নয়, আশপাশের রাস্তায় নামাজ আদায়ের চেষ্টাও বাধাগ্রস্ত করা হয়। অনেক মুসল্লিকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে ছোট ছোট মসজিদে বা খোলা রাস্তায় নামাজ আদায় করেন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র ওয়াকফ দপ্তরের কিছু কর্মী ছাড়া অন্য কেউ মসজিদে ঢুকতে পারছেন না।
এদিকে একই সঙ্গে খ্রিস্টানদের অন্যতম পবিত্র স্থান ‘চার্চ অফ দ্য হলি সেপালকার’ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম এত দীর্ঘ সময় ধরে আল-আকসায় এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোয় রমজানের তারাবি ও ঈদের নামাজও সেখানে আদায় করতে পারেননি মুসল্লিরা।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এ সিদ্ধান্তকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তার অজুহাতে আল-আকসাকে মুসল্লিশূন্য করে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আসন্ন ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে ইহুদি কট্টরপন্থীদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।