মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের জমা দেওয়া সনদ যাচাইয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে অন্তত ৮ হাজার জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও তথ্য সন্দেহজনক বলে জানা গেছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত এসব কর্মকর্তার তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাইয়ে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৭ থেকে ৮ জনের তথ্যে গরমিল বা অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ভুয়া সনদধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে এখনো পুরো যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বর্তমানে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে প্রায় ৯০ হাজার ৫২৭ জন সরকারি চাকরিতে রয়েছেন। এদের তথ্য সংগ্রহ করে ধাপে ধাপে যাচাই করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে প্রায় ৬৭ হাজার জনের তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে। বাকি তথ্য যাচাইয়ে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেকেই সঠিক তথ্য দেননি বা তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল। কিছু ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে।
যাচাই শেষে যাদের সনদ ভুয়া বা তথ্য অসত্য প্রমাণিত হবে, তাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে সরাসরি চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন। তালিকা প্রকাশে রাজনৈতিক চাপ বা তদবির আসতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।