এক মুহূর্তের অসতর্কতায় চোখের নিমেষেই শেষ হয়ে গেল পাঁচটি প্রাণ। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মা–ছেলেসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাতে উপজেলার ধলাটেঙ্গুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং কর্মসূত্রে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ফিরছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে একটি ভাড়া করা বাসে করে যাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু পথে বাসটির জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে যাত্রীরা মহাসড়কের পাশে নেমে অপেক্ষা করতে থাকেন।
গরম ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে কেউ কেউ রাস্তার পাশে, আবার কেউ বসেন পাশের রেললাইনে। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রেন এসে পড়লে মুহূর্তেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান পাঁচজন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সুলতান, নার্গিস (৩৫), তার ছেলে নিরব (১২), দোলা (৩৫) ও রিফা (২৩)। তারা সবাই একই এলাকার এবং একই শিল্পাঞ্চলে কাজ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নূর ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার ঠিক আগে সুলতান মুঠোফোনে মেয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেন এসে সবকিছু শেষ করে দেয়।
স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি ছাড়া বাসটি যাত্রা শুরু করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ। তবে চালক ও তার সহকারী পলাতক রয়েছেন।
টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, স্বজনদের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার সকালে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে নেওয়া হয়েছে এবং দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।