দেশে প্রায় ৫৫ লাখ তরুণ বর্তমানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ-কোনোটিতেই যুক্ত নয় (নিট)। এতে অর্থনীতিতে বড় ধরনের উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ১৬ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। অথচ এই বিপুল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ শ্রমবাজারে কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারছে না।
সরকারি হিসাবে যুব বেকারত্বের হার ৮.০৭ শতাংশ হলেও শিক্ষিত তরুণদের ক্ষেত্রে এই হার অনেক বেশি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২৮.২৪ শতাংশে পৌঁছেছে।
জিইডির বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী বেকার রয়েছেন। প্রতিবছর প্রায় ৭.৫ লাখ নতুন গ্র্যাজুয়েট শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না।
অন্যদিকে শিল্প খাতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল (এসটিইএম) ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী না পেয়ে উৎপাদন সম্প্রসারণে দ্বিধায় পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে অসামঞ্জস্যই এই সংকটের মূল কারণ। দেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় (টিভিইটি) পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, যেখানে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বেশি।
এছাড়া জিডিপির অনুপাতে শিক্ষায় সরকারি ব্যয় কমে ১.৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তরুণদের এই কর্মসংস্থান সংকটের সামাজিক প্রভাবও স্পষ্ট হচ্ছে। দেশে প্রায় ৮৩ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যার ৮০ শতাংশই তরুণ। একইভাবে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৫০ লাখের বেশি তরুণ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রায় ৫৫ শতাংশ তরুণ বিদেশে কাজের সুযোগ খুঁজছেন। তবে দক্ষতার ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও তারা পিছিয়ে পড়ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে সমন্বিত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে জিইডি।
এখনো কোনো মতামত নেই।