পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বুধবার উপসাগরীয় অঞ্চলে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর এমন মন্তব্য করেন ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে তেলের দামে এবং সে জন্য বিশ্বকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
ব্যাংক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাতেও হুমকি
ইরানের এই মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির কারণেই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপরও হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে এসব স্থাপনার আশপাশে না যেতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।
উপসাগরে জাহাজে হামলা
এদিকে পারস্য উপসাগরে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর আঘাতে বুধবার আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে তারা এ পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তেলের বাজারে নতুন উদ্বেগ
সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়লেও চলতি সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা কমেছিল। তবে নতুন করে জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজারে আবারও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বৈশ্বিক কৌশলগত মজুত থেকে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সুপারিশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগরের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তেলের দাম বেড়ে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ইসরায়েলি নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে যেতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও দ্রুত সামরিক অভিযান শেষ করার কোনো ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।
এখনো কোনো মতামত নেই।