বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ বৃহস্পতিবার। সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হবে নতুন সংসদের কার্যক্রম।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে পরিবর্তন এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন শেষে গঠিত নতুন সংসদের দিকে দীর্ঘদিন ধরে তাকিয়ে ছিল দেশের মানুষ। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই অপেক্ষা ছিল সংসদের প্রথম অধিবেশন কবে বসবে আজ সেই প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে।
স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখেই শুরু
প্রথম দিনের অধিবেশন শুরু হবে কিছুটা ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়ায়। শুরুতে স্পিকারের আসন খালি রেখে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন, যিনি সাময়িকভাবে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তাঁর সভাপতিত্বে প্রথম দিনের কার্যসূচিতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টি আসতে পারে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতির মধ্যে তাদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর নবনির্বাচিত স্পিকারের সভাপতিত্বে আবারও অধিবেশন শুরু হবে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তাপের আভাস
সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই দিনের শেষভাগে সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
তবে এ ভাষণ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বলছে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং ভাষণের সময় সংসদ থেকে ওয়াকআউটের আভাস দিয়েছে।
অধ্যাদেশ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করতে না পারলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে।
এছাড়া সংসদীয় কমিটি গঠন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নির্বাচন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিবেশনের সময়সূচি
প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে দুই দিন বিরতি থাকবে। এরপর ১৫ মার্চ আবার সংসদ বসবে। ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ পুনরায় অধিবেশন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন বাস্তবতায় সংসদ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ত্রয়োদশ সংসদের ওপর এখন নানা সংস্কার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংসদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
প্রস্তুতি সম্পন্ন
এদিকে সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবনে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
অধিবেশন উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
এখনো কোনো মতামত নেই।