ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষায়িত ‘ডুমসডে প্লেন’ বা কৌশলগত কমান্ড বিমানের তৎপরতা বেড়েছে। পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি মাথায় রেখে এসব বিমানের একাধিক বিশেষ উড্ডয়ন নজরে এসেছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Daily Mail এক প্রতিবেদনে জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর E-6B Mercury কৌশলগত বায়ুবাহিত কমান্ড বিমানের নিয়মিত তৎপরতা ধরা পড়েছে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটায়।
বোয়িং ৭০৭ প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত এ বিমানগুলোকে আকাশভিত্তিক ভাসমান কমান্ড সেন্টার বলা হয়। বড় ধরনের সামরিক সংকট বা পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে স্থলভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলেও আকাশ থেকে কমান্ড ও নির্দেশনা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এগুলোর।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিমানের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পারমাণবিক সাবমেরিন, স্থল ঘাঁটি এবং স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় একাধিক বিশেষ মিশন পরিচালিত হয়েছে। কিছু বিমান পূর্ব উপকূল ও মধ্যাঞ্চলের সামরিক ঘাঁটির মধ্যে উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি বিমান আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটে অগ্রসর হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি Pentagon। তারা বিষয়টিকে ‘অপারেশনাল সিকিউরিটি’ সংক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছে।
এই ফ্লিট ‘ট্যাকামো’ (Take Charge and Move Out) মিশনের অংশ হিসেবে কাজ করে। এর উদ্দেশ্য সংকটকালেও পারমাণবিক কমান্ড ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার পর এমন কৌশলগত প্রস্তুতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান, নিরাপদ যোগাযোগ এবং বিকল্প কমান্ড কাঠামো বজায় রাখতে এই বিমানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৮০-এর দশকে চালু হলেও E-6B Mercury এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম নির্ভরযোগ্য কৌশলগত বায়ুবাহিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত। প্রায় ২২ সদস্যের ক্রু নিয়ে বিমানগুলো একটানা প্রায় ৭ হাজার মাইল উড়তে পারে। আকাশেই জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা থাকায় টানা কয়েক দিন আকাশে অবস্থান সম্ভব।
এর ‘লুকিং গ্লাস’ মিশনের মাধ্যমে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসব বিমানের সক্রিয়তা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
এখনো কোনো মতামত নেই।