মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তবে তারা মনে করেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির বিষয়টি কার্যকর হবে না।
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় সফররত কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আলবানিজ বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দ্রুত কমতে দেখতে চায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কিছু হামলার ঘটনা ঘটছে, যেখানে যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয় এমন দেশগুলোর এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি বেসামরিক ও পর্যটন এলাকাও হামলার শিকার হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, উত্তেজনা কমানো জরুরি হলেও একই সঙ্গে সংঘাতের মূল লক্ষ্যগুলো পূরণ হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও তার অস্ট্রেলীয় সমকক্ষের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে প্রথমেই বেসামরিক জনগণ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করা প্রয়োজন।
তার মতে, এই ধরনের হামলা বন্ধ হওয়া এবং পারমাণবিক ঝুঁকি মোকাবিলা করা দুই বিষয়ই যুদ্ধবিরতির পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
উভয় নেতা সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থনও জানিয়েছেন।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে কানাডা সরাসরি অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কার্নি বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না। তবে তিনি আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কানাডা সবসময় নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে এবং প্রয়োজন হলে মিত্র দেশগুলোর পাশে দাঁড়াবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংকট বিশ্ব রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।