ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন করে টানাপোড়েনে জড়িয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি এবং তাদের আচরণ ‘খুব খারাপ’ ছিল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রয়োজনে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করা হবে।
এর জবাবে স্পেন সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগেই ইরানে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস বলেন, দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলো যৌথভাবে পরিচালিত হলেও সেগুলো স্পেনের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণাধীন। তাই ইরানে হামলার জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ স্পেনের রোটা ও মোরন ঘাঁটি থেকে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কারসহ বেশ কয়েকটি বিমান সরিয়ে নেয়।
এই ঘটনা প্রথম নয়। অতীতেও বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা গেছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইসরাইল সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েও স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন ছিল।
অর্থনৈতিকভাবে স্পেন বিশ্বের শীর্ষ অলিভ অয়েল রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি। পাশাপাশি তারা যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি করে। তবে সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রই স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এখনো কোনো মতামত নেই।