ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশটির বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং ওই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি দাবি করেন, প্রণালীটি কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে। তার ভাষ্য, কেউ জোর করে অতিক্রমের চেষ্টা করলে বিপ্লবী গার্ড ও নিয়মিত নৌবাহিনী ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, তেলবাহী জাহাজসহ যে কোনো জাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বার্তায় জাবারি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে তেল পাইপলাইনেও হামলা চালানো হবে এবং অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তার দাবি, এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ঋণ ও জ্বালানি নির্ভরতার প্রসঙ্গ টেনে জাবারি মন্তব্য করেন এই অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে সম্ভাব্য পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ইসরাইলি ও মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই তেহরান এমন কড়া অবস্থান নিয়েছে। ইরানের দাবি, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক যাচাই সম্ভব হয়নি।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।সোমবার সকাল থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং উৎপাদন অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।