যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) দ্রুত নতুন নেতা নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, আইআরজিসির শীর্ষ পর্যায়ের অবশিষ্ট কমান্ড কাঠামো খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই উত্তরসূরি নির্ধারণে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে চায়। বিশেষ করে ভোরের আগেই বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা Islamic Republic News Agency (ইরনা) জানিয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত তিন সদস্যের একটি নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সমন্বয় করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা Assembly of Experts-এর বৈঠক ডাকা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিমান হামলার ঝুঁকির কারণে নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ বাড়ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে হামলার পর দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। আদেশ প্রেরণ ও সমন্বয়ে জটিলতার ইঙ্গিত মিলছে। ফলে মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব বা বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও জানা গেছে, সম্ভাব্য নতুন হামলার শঙ্কায় কিছু সামরিক সদস্য ঘাঁটিতে যোগ দিতে বিলম্ব করছেন। কমান্ড ও সহায়তা অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এই উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, দিনের আলো ফুটলে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাবেশ বা প্রতিবাদের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে ইরান এক অনিশ্চিত ও উত্তেজনাপূর্ণ সময় পার করছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।