রমজান শুরু হতেই খেজুরের বাজারে আবারও দাম বাড়ার হিড়িক। মান ও জাতভেদে কেজিপ্রতি ২০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। অথচ ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার গত বছরের মতো এবারও আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়েছে। প্রত্যাশা ছিল, এতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকদের দাবি, আগের বছরগুলোর মতো এবার সরকার খেজুরের নির্ধারিত পাইকারি ও খুচরা মূল্য ঘোষণা করেনি। ফলে আমদানিকারক থেকে শুরু করে পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের মতো দাম নির্ধারণ করছেন।
ভোক্তাদের অভিযোগ, পণ্যের দাম বাড়লে তা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়, কিন্তু কমানোর সিদ্ধান্ত বাজারে প্রতিফলিত হতে সময় লাগে। অনেক সময় সরকারি ঘোষণাই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে। এ বছর মূল্য নির্ধারণ না থাকায় পরিস্থিতি আরও লাগামহীন হয়েছে।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশে রমজানকেন্দ্রিক খেজুরের চাহিদা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন। এর বড় অংশই ব্যবহৃত হয় রমজান মাসে। সর্বশেষ আমদানি ও আগের মজুত মিলিয়ে বাজারে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর রয়েছে অর্থাৎ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে কয়েক দফায় বড় পরিমাণ খেজুর আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ আমদানি করেছে মাত্র ২৫টি প্রতিষ্ঠান। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সীমিতসংখ্যক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী।
রাজধানী ও চট্টগ্রামের একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের আগে যে দাবাস খেজুর ৪৯০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা ৬০০ টাকার বেশি। বড়ই, কালমি, সুক্কারি, মাবরুম, মরিয়ম ও মেডজুল প্রায় সব জনপ্রিয় জাতের দামই কেজিতে ১০০ টাকা বা তার বেশি বেড়েছে।
বর্তমানে
- কালমি ৭৬০ টাকার ওপরে
- সুক্কারি প্রায় ৮০০ টাকা
- মাবরুম ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা
- মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা
- মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানিকারক পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, কাস্টমসে ঘোষিত আমদানি মূল্য, শুল্ক ও পরিবহন খরচ যোগ করলে গড় খরচ কেজিপ্রতি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর বাজার তদারকি না থাকায় সুযোগ নিচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী। নিয়মিত মনিটরিং ও মূল্যতালিকা প্রকাশ না হলে ভোক্তাদের স্বস্তি মিলবে না।
রমজানের মতো সংবেদনশীল সময়ে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। খেজুরের বাজার এখন সেই পরীক্ষার মুখে।
এখনো কোনো মতামত নেই।