২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আর কয়েক মাস বাকি। এমন সময় মেক্সিকোতে নতুন করে কার্টেল সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে এ অবস্থায় দেশটি কি নিরাপদভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের অংশীদার হতে পারবে?
মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক চক্রের নেতা নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস, যিনি ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত, বিশেষ বাহিনীর অভিযানে নিহত হন। তিনি ছিলেন শক্তিশালী অপরাধচক্র Jalisco New Generation Cartel (সিজেএনজি)-এর প্রধান।
তার মৃত্যুর পরপরই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সড়কে যানবাহনে আগুন দেয়, মহাসড়ক অবরোধ করে এবং একাধিক এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন সহিংস প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক দর্শকদের মনে ভয় তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরের আগে।
Guadalajara যা বিশ্বকাপের স্বাগতিক শহরগুলোর একটি সহিংসতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করে। জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পাবলো লেমুস বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানান এবং সাময়িকভাবে গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেন।
উপকূলীয় পর্যটন শহর Puerto Vallarta-তেও উত্তেজনার চিত্র দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও আতঙ্কিত মানুষের ছুটোছুটি দেখা গেছে।
সহিংসতার জেরে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বলে জানা গেছে। এদিকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে FIFA-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এবারের আসর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে, যেখানে লাখো বিদেশি সমর্থক অংশ নেবেন।
White House জানিয়েছে, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে। অন্যদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
তবে সমালোচকদের মতে, পুড়ে যাওয়া যানবাহন, স্কুল বন্ধ এবং সামাজিক মাধ্যমে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’-সদৃশ চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সিজেএনজির নেতৃত্বে পরিবর্তন হলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সংঘাত বাড়তে পারে। এতে সহিংসতা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ফিফার সামনে বড় প্রশ্ন মেক্সিকো কি বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রায় ১০ লাখ বিদেশি দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে? এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি ফিফা।
বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করা যে তারা নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম।
এখনো কোনো মতামত নেই।