ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গেজেট প্রকাশের পর সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আনুপাতিক হিসাব অনুযায়ী Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত আসন। অন্যদিকে Bangladesh Jamaat-e-Islami নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ভাগে যেতে পারে ১৩টি আসন, যার মধ্যে জামায়াত এককভাবে পেতে পারে ১১টি।
মনোনয়ন নিয়ে দলীয় তৎপরতা
দলীয় সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নীতিনির্ধারণী ফোরামে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর সাংগঠনিক দায়িত্ব, দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ত্যাগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
একজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, জোটের ভারসাম্য রক্ষা ও কৌশলগত সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হচ্ছে না।
আইন কী বলছে?
বর্তমান বিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ভোট প্রদান করেন। সাধারণ আসনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে দল বা জোট প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারে। একাধিক প্রার্থী হলে ভোটাভুটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তরা নির্বাচিত হন। একটি সংরক্ষিত আসন পেতে ছয়জন নির্বাচিত এমপির সমর্থন প্রয়োজন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোনো জোটে যোগ দিলে হিসাব-নিকাশে পরিবর্তন আসতে পারে।
আলোচনায় যেসব নাম
দলীয় ও জোট সূত্রে যাদের নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন
- অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা (কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি)
- প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ (বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক)
- ডা. আমিনা বেগম রহমান (কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য)
- শাহান আরা বেগম (মজলিশে শূরা সদস্য)
- ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী (সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী)
এছাড়া আরও কয়েকজন নেত্রীর নাম ঘুরে ফিরে আসছে সাঈদা রুম্মান, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন।
অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নারীরা দলীয় প্রধান না হলেও সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সাংগঠনিক শক্তি
দলীয় তথ্য অনুযায়ী, নারী-পুরুষ মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সংখ্যা এক লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী। মহিলা বিভাগের অধীনে প্রায় অর্ধলাখ সদস্য সক্রিয় রয়েছেন। পাশাপাশি কয়েক লাখ কর্মী ও সহযোগী সদস্য নিয়ে সারা দেশে তাদের সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তৃত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা শুধু সংসদের সংখ্যার হিসাব নয় জোট রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ কৌশলের দিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।
এখনো কোনো মতামত নেই।