সারাদিন রোজা রাখার পর রমজান মাসে ইফতারের মুহূর্তটি যেন এক আলাদা অনুভূতি। মাগরিবের নামাজ এর আজান শোনার সঙ্গে সঙ্গে টেবিলে সাজানো নানা পদের খাবার দেখে ক্ষুধা যেন আরও বেড়ে যায়। কিন্তু পেট ভরে খাওয়ার পর অনেকেই হঠাৎ অদ্ভুত ক্লান্তি অনুভব করেন। কেন এমন হয়?
কেন ইফতারের পর ক্লান্ত লাগে?
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ ভারী ও বেশি খাবার খেলে শরীরকে দ্রুত হজম প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু করতে হয়। এতে রক্তপ্রবাহের বড় একটি অংশ পরিপাকতন্ত্রে চলে যায়। ফলে শরীরে সাময়িক অবসাদ ও ঝিমুনি অনুভূত হয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মিষ্টি বা তৈলাক্ত খাবার এই ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।
তবে কিছু সচেতন অভ্যাস মেনে চললে সহজেই এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
ধীরে ও পরিমিতভাবে খান
ইফতারে সব খাবার একসঙ্গে না খেয়ে ধাপে ধাপে খান। প্রথমে হালকা কিছু খেয়ে কয়েক মিনিট বিরতি দিন। এতে হজমের ওপর চাপ কম পড়ে এবং শরীরও ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে পায়।
হালকা ও সুষম খাবার বেছে নিন
খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা ভালো। এরপর ফল, ছোলা, ডিম, সালাদ, সবজি বা হালকা স্যুপ রাখতে পারেন। এগুলো সহজপাচ্য এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কম রাখাই উত্তম।
পানিশূন্যতা দূর করুন
সারাদিন পানি না খাওয়ার কারণে শরীরে ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়। তাই ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ডাবের পানি, ফলের রস বা লেবুর শরবতও উপকারী। এতে শরীর সতেজ থাকবে এবং ক্লান্তি কমবে।
অতিরিক্ত মিষ্টি এড়িয়ে চলুন
একসঙ্গে বেশি মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে আবার কমে যায়। এতে ঝিমুনি ও অবসাদ বাড়ে। মিষ্টির বদলে ফল বা খেজুর খাওয়া ভালো।
এক কাপ চা বা কফি
ইফতারের কিছুক্ষণ পর হালকা এক কাপ চা বা কফি খেলে ক্যাফেইন শরীরকে সতেজ করতে পারে। তবে খুব কড়া বা একাধিক কাপ পান না করাই ভালো।
কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন
ইফতারের পরপরই শুয়ে পড়বেন না। হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয় এবং ক্লান্তি কমে যায়।
নামাজ আদায় করে নিন
অনেকে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করে আগে নামাজ আদায় করেন। এতে একদিকে ইবাদত সম্পন্ন হয়, অন্যদিকে শরীর খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় পায়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
শেষ কথা
ইফতারের পর ক্লান্তি খুব স্বাভাবিক বিষয়। তবে সঠিক খাবার নির্বাচন, পরিমিত আহার এবং সামান্য সচেতনতা আপনাকে রাখতে পারে প্রাণবন্ত ও সতেজ। রোজায় সুস্থ থাকতে চাইলে খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এখনো কোনো মতামত নেই।