সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থবির অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বাড়তে থাকা বেকারত্ব। বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে না পারলে জনসমর্থন দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে।
এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, নতুন সরকারের প্রতি ভোটারদের মূল্যায়ন নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপরদ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা।
প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে
International Monetary Fund (আইএমএফ)-এর তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৩.৭ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ৪.২ শতাংশ এবং ২০২৩ অর্থবছরে ছিল ৫.৮ শতাংশ। চলতি ও পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক মন্দা ও আমদানি ব্যয়ের চাপ প্রবৃদ্ধিকে ধীর করেছে। যেখানে একসময় ধারাবাহিকভাবে ৬ থেকে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল, এখন তা অনেকটাই চাপে।
নীতিগত দিকনির্দেশনা ও বিনিয়োগ
রেটিং সংস্থা Moody’s তাদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পোশাক খাতে বিক্ষোভ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। নীতিগত স্পষ্টতা না থাকায় বিনিয়োগেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। তবে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার ও বিনিময় হার আরও নমনীয় করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।
অন্যদিকে Oxford Economics মনে করছে, ঝুঁকি থাকলেও বাজারমুখী নীতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা রয়েছে।
পোশাক খাতে চাপ
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) মর্যাদার কারণে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারসহ নানা সুবিধা পাচ্ছে। উত্তরণের পর এসব সুবিধা কমে গেলে রপ্তানি আয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও কঠিন হবে।
কূটনীতিতে ভারসাম্য
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নতুন সরকারকে আঞ্চলিক সম্পর্কেও ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হলেও পারস্পরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামনে করণীয়
অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা এই চার ক্ষেত্রেই সরকারের সাফল্য নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ।
নির্বাচনী জয়ের পর প্রাথমিক জনসমর্থন থাকলেও বাস্তব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
এখনো কোনো মতামত নেই।