অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা Muhammad Yunus জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে বলেছেন, ১৭ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় প্রচারিত ভাষণে তিনি দেশের জনগণ, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

ড. ইউনূস বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী অচলাবস্থা কাটিয়ে দেশকে সচল করা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ। এরপর সংস্কার, বিচার এবং অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোথায় কতটা সফলতা এসেছে, তার মূল্যায়ন জনগণই করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, গত ১৮ মাসে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রায় ১৩০টি আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন এবং শত শত নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং গুম খুনের সংস্কৃতি বন্ধে আইনি কাঠামো পুনর্গঠনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের আর্থিক অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। ব্যাংকিং খাত ও বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আত্মবিশ্বাসী ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছে। রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল। সেই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছে।
বিদায়ী ভাষণের শেষ অংশে তিনি নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান এবং গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও বাকস্বাধীনতার চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সবশেষে দেশবাসীর দোয়া কামনা করে দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন তিনি।
এখনো কোনো মতামত নেই।