ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে অনিয়ম, কারচুপি ও ফলাফল শিটে সংশোধনের অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানাতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।
রোববার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে পৌঁছান তারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ ও আবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে শনিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের বাধা দেওয়া, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ফলাফল শিটে ওভাররাইটিং ও ঘষামাজার মতো অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু আসনে ফল ঘোষণা করতে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে, আবার কোথাও দ্রুত ফল প্রকাশ করা হয়েছে,যা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যেসব আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেসব আসনে পুনর্গণনার আবেদন করা হবে এবং প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবদুল হালিম, মুয়াযযম হোসেন হেলাল, আব্দুল মান্নান, নাজিবুর রহমান মোমেন ও ওলি উল্লাহ নোমান।
মুয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, পুনর্গণনা হলে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ পাবে এবং যাদের পরাজিত দেখানো হয়েছে, তাদের অনেকে বিজয়ী হবেন।
ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেন, তার আসনের কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল শিটে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এজেন্টদের নামের অমিল, এনআইডি নম্বর অনুপস্থিত, পেন্সিলে লেখা, কার্বন কপি ব্যবহার, ওভাররাইটিং এবং ফটোকপি করা শিট ব্যবহারের মতো বিষয় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জোটের নেতারা। তাদের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় হামলায় আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটেছে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
যেসব আসনে পুনর্গণনার আবেদন
ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুনর্গণনার দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি।
এখনো কোনো মতামত নেই।