অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাররা গ্রামে শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী (সেটলার) হামলা চালিয়েছে। হামলায় কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সম্পত্তি ভাঙচুর এবং গ্রামবাসীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সংঘটিত এ ঘটনার পর কয়েকটি পরিবার নিরাপত্তার জন্য এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারীরা অন্তত দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি। গ্রামবাসীরা হামলাকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
সাররা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ তুরাবি জানান, তার বাড়িতে পাথর ও পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে বাড়ির আঙিনা, একটি গাড়ি এবং ভবনের নিচতলা আগুনে পুড়ে যায়। তিনি দাবি করেন, হামলার সময় তার পরিবার নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইসরায়েলি সেনারা হামলাকারীদের থামাতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সাররা পৌরসভার সদস্য আহমদ সাররাবি অভিযোগ করেন, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তার ভাষ্য, কাছাকাছি একটি বসতি থেকে শত শত সেটলার দ্রুত গ্রামে ঢুকে বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে তারা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা উম্মে ওয়াহিদ বলেন, হামলার আতঙ্কে তিনি প্রতিদিন রাতেই সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ইসরায়েলি বুলডোজার তার মেয়ের বাড়ির পাশের জলপাই গাছ উপড়ে ফেলেছে এবং এরপরই ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটে।
মোহাম্মদ তুরাবি জানান, হামলার সময় শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান। এরপর হামলাকারীরা তাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। ধোঁয়ার কারণে তার এক নাতি অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং হামলার পর থেকে শিশুরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।