চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি জাহাজে দস্যুতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ী মহল। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর আস্থা কমবে এবং এর প্রভাব পড়বে বীমা ব্যয় ও পণ্য পরিবহন খরচে।
চলতি মাসেই বহির্নোঙরে বিদেশি জাহাজে অন্তত তিনটি দস্যুতার অভিযোগ উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সবশেষ গত ২৯ জুন মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বন্দরের চার্লি অ্যাংকরেজে নোঙর করে এমভি হাই জু নামের একটি জাহাজ। সীতাকুণ্ডের একটি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য আনা জাহাজটিতে রাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল উঠে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমদানিকারকের দাবি, দস্যুরা নাবিকদের জিম্মি করে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের স্পেয়ার পার্টসসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনাম চৌধুরী বলেন, একসময় প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসা চুরি ও দস্যুতার ঘটনা আবারও বাড়ছে। সংঘবদ্ধ চক্র বিদেশি জাহাজ থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট করছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও জলসীমার নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। তবে কোস্ট গার্ড (পূর্ব জোন)-এর জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা, অননুমোদিত নৌযানের চলাচল, নিয়ন্ত্রণহীন জেলে নৌকা এবং কিছু স্থানীয় শিপিং এজেন্টের গাফিলতির কারণে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে বহির্নোঙরে দস্যুতার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা না হলে দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক শিপিং কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।