জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মজুমদার অথৈয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তার প্রেমিক ইয়াছিন মজুমদারের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইয়াছিনের ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতনের কারণেই অথৈ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
বিডিনিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল রাজধানীর সূত্রাপুরের লক্ষ্মীবাজারের নন্দলাল লেনের একটি বাসায় আত্মহত্যা করেন অথৈ। পরদিন তার বাবা প্রণব মজুমদার সূত্রাপুর থানায় ইয়াছিনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার পর ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার এসআই আলমগীর হোসেন তদন্ত শেষে গত ১৯ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ১৪ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং বিচারিক কার্যক্রমের জন্য মামলাটি বদলির নির্দেশ দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অথৈ ও ইয়াছিনের বাড়ি পাশাপাশি ছিল এবং তারা চট্টগ্রামের একই স্কুলে পড়তেন। পরে অথৈ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে ভর্তি হয়ে ঢাকায় চলে এলে ইয়াছিনও ঢাকায় এসে চাকরি নেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও সম্পর্কের পর ইয়াছিন নিয়মিত অপমানজনক ভাষা ব্যবহার ও মানসিকভাবে নিপীড়ন করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত উৎসবের অনুশীলন শেষে মেসে ফেরার পথে ইয়াছিন অথৈকে উৎসবে অংশ না নিতে বলেন এবং তাকে গালিগালাজ ও অপমান করেন। এর কিছু সময় পর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে অথৈ নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী প্রণব মজুমদার বলেন, মেয়েকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে তাকে ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তিনি ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সুমন কুমার রায় দাবি করেন, সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ইয়াছিনের মোবাইল ফোনে এমন কিছু ছবি পাওয়া গেছে, যা দিয়ে তিনি অথৈকে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতেন। তার ভাষ্য, এসব নির্যাতনের ফলেই অথৈ আত্মহত্যা করেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবু বক্কর ছিদ্দিক জানিয়েছেন, ইয়াছিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। তিনি বলেন, পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে।
মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম এখন আদালতে চলমান রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।