মৃত্যুর পর মানুষের জীবনের প্রথম ধাপ হলো কবর বা আলমে বরজখ। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এখান থেকেই শুরু হয় আখিরাতের যাত্রা। কবরের প্রশ্ন, নেয়ামত ও শাস্তি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আকিদাগত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। তবে হাদিসে এমন কয়েক শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ রয়েছে, যাদের কবরের প্রশ্ন বা ফিতনা থেকে মুক্তি দেওয়ার সুসংবাদ পাওয়া যায়।
প্রথমত, আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিরা। হাদিসে এসেছে, তারা কবরের পরীক্ষার ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবেন এবং তাদের নেক আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকবে।
দ্বিতীয়ত, শহিদদের জন্য রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, শহিদ কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবেন এবং আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ করবেন।
তৃতীয়ত, পেটের কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের জন্যও কবরের আজাব থেকে মুক্তির সুসংবাদ রয়েছে। ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে কষ্ট ভোগকারীদের জন্য এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।
চতুর্থত, নিয়মিত সুরা আল-মুলক তিলাওয়াতকারীদের ব্যাপারেও হাদিসে বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে। এ সূরা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং কবরের শাস্তি থেকে রক্ষার মাধ্যম হবে বলে বর্ণিত হয়েছে।
পঞ্চমত, জুমার দিন বা জুমার রাতে মৃত্যুবরণকারী মুসলমানদের কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখার সুসংবাদ হাদিসে পাওয়া যায়।
এ ছাড়া কিছু আলেম নবী-রাসুল, সিদ্দীক, নাবালেগ শিশু এবং শরিয়তের দায়িত্বমুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কবরের প্রশ্ন থেকে অব্যাহতির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সহিহ বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ইসলামি শিক্ষায় কবরের সফলতাকে আখিরাতের সফলতার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই একজন মুসলমানের উচিত বিশুদ্ধ আকিদা, নিয়মিত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, তাওবা-ইস্তিগফার এবং নেক আমলের মাধ্যমে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।