বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় আবারও শীর্ষ সারিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সর্বশেষ বায়ুমান সূচকে শহরটির অবস্থান সপ্তম, যেখানে বায়ুমান সূচক (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই) ১২৮। এই মাত্রার বায়ুদূষণকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার প্রকাশিত সর্বশেষ সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে।
তালিকায় উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। শহরটির একিউআই স্কোর ২৬৬, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা, যার একিউআই ১৭১। তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাহরাইনের মানামা (১৬৫), চতুর্থ স্থানে ভিয়েতনামের হ্যানয় (১৫১), পঞ্চম স্থানে পাকিস্তানের লাহোর (১৩৪) এবং ষষ্ঠ স্থানে মিসরের কায়রো (১৩২)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, ইটভাটা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। বর্ষাকালেও এসব উৎস থেকে দূষণ পুরোপুরি কমে না।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, ০ থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো, ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি এবং ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ বেশি থাকলে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং হৃদ্রোগ বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়াই ভালো। প্রয়োজনে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় খোলা পরিবেশে অবস্থান এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।