বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর একদিকে যেমন মাঠে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, অন্যদিকে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায় লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের একটি আবেগঘন মুহূর্ত। দুই ভিন্ন দৃশ্যই ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারানোর পর হতাশ হয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। সেই সময় স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। একপর্যায়ে গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন তিনি।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন পারেদেস। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির পর শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ম্যাচ-পরবর্তী এই আচরণের জন্য পারেদেসকে লাল কার্ড দেখান ম্যাচ কর্মকর্তারা।
তবে একই ম্যাচে ফুটবলীয় সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্তও দেখা যায়।
পরাজয়ের বেদনায় মাঠে একা বসে ছিলেন লিওনেল মেসি। ঠিক সেই সময় শিরোপা উদযাপনের মাঝেই তার কাছে ছুটে যান স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন তিনি। দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ কথোপকথনও হয়।
পরে সেই মুহূর্ত নিয়ে মেসি বলেন, “সে আমাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছিল এবং বারবার বলছিল, আমি যেন না কাঁদি। সে সত্যিই খুব দয়ালু ও কোমল মনের একটি ছেলে।”
ম্যাচের আগে দুজনকে হাসিমুখে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেও দেখা গিয়েছিল। ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠেই সীমাবদ্ধ রেখে ম্যাচ শেষে পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের এই দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মেসি ও ইয়ামালের সম্পর্কের একটি বিশেষ স্মৃতিও রয়েছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনা ফাউন্ডেশনের একটি দাতব্য ফটোশুটে প্রথমবারের মতো তাদের দেখা হয়েছিল। তখন ইয়ামালের বয়স ছিল মাত্র পাঁচ মাস, আর তরুণ মেসির বয়স ছিল ২০ বছর। সেই ফটোশুটে ছোট্ট ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করানোর একটি ছবি বহু বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ রাতে তাই দুই বিপরীত ছবি ফুটে উঠেছে—একদিকে উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি ও লাল কার্ড; অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রজন্মের ফুটবলারের আন্তরিক আলিঙ্গন, যা ক্রীড়াসুলভ আচরণের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।