২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু স্পেন ও আর্জেন্টিনার শিরোপা লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়াম পরিণত হয়েছিল বিশ্ববিনোদনের এক বিশাল মঞ্চে, যেখানে ফুটবলের সঙ্গে একই ছাদের নিচে মিলিত হয় সংগীত, হলিউড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির শীর্ষ তারকারা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে আয়োজন করা হয় হাফটাইম শো। শুরুতেই দুই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো ও রোনালদিনহো একটি ডুন বাগিতে করে মঞ্চে নিয়ে আসেন পপ তারকা ম্যাডোনাকে। তিনি তার জনপ্রিয় গান “Music”-এর নতুন পরিবেশনায় দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন।
এরপর জনপ্রিয় টিভি সিরিজ “Ted Lasso”-এর অভিনেতা জেসন সুডেইকিস ও ব্রেন্ডন হান্ট দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন কানাডিয়ান পপ তারকা জাস্টিন বিবারকে। অ্যাকোস্টিক গিটারে তার আবেগঘন পরিবেশনা স্টেডিয়ামে ভিন্ন আবহ তৈরি করে।
শোয়ের গতি আরও বাড়িয়ে দেন শাকিরা। নাইজেরিয়ার বার্না বয় এবং উগান্ডার নৃত্যদল ঘেটো কিডসকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান “Dai Dai” পরিবেশন করে দর্শকদের নাচতে বাধ্য করেন তিনি।
এরপর মঞ্চে আসে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। লাল-কালো পোশাকে তাদের বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় গান “Dynamite” পরিবেশনা পুরো স্টেডিয়ামে নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করে।
সংগীত আয়োজনে আরও যোগ দেন পোস্ট মেলোন, যিনি সোয়ে লিকে সঙ্গে নিয়ে পরিবেশন করেন জনপ্রিয় গান “Sunflower”। পাশাপাশি রবি উইলিয়ামস, জেনিফার হাডসন, নিকোল শেরজিঙ্গার, লরা পাউসিনি এবং মারিয়া বেসেরার উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে এক আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসবে পরিণত করে।
সংস্কৃতি ও শিল্পকলার মিশেলও ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। দ্য মাপেটস-এর জনপ্রিয় চরিত্র অ্যানিমাল ড্রাম বাজিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করেন। পরে গুস্তাভো দুদামেল-এর নেতৃত্বে নিউইয়র্ক ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করে বিখ্যাত সুর “Seven Nation Army”, যা স্টেডিয়ামের পরিবেশে এনে দেয় ভিন্ন আবহ।
ম্যাচ শুরুর আগে হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ দুই ফাইনালিস্ট দলকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে জনপ্রিয় গ্লোবাল স্ট্রিমার আইশোস্পিড (IShowSpeed) ভিআইপি বক্সে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি নিজের “Champions” গান দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
সব মিলিয়ে ফুটবলের লড়াইয়ের পাশাপাশি সংগীত, চলচ্চিত্র, ইন্টারনেট সংস্কৃতি এবং বিশ্বখ্যাত তারকাদের উপস্থিতিতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল কেবল একটি ক্রীড়া ইভেন্ট নয়, বরং বিশ্ববিনোদনের ইতিহাসে অন্যতম বড় আয়োজন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকল।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।