বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণ হয়নি আর্জেন্টিনার। তবে ফাইনালে দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে স্পেনকে দীর্ঘ সময় গোলবঞ্চিত রাখলেও শেষ পর্যন্ত দলকে পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি।
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন। আর সেই হারের মধ্যেও অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য আলোচনায় উঠে আসেন মার্তিনেজ।
ভাঙা আঙুল নিয়েই লড়াই
চোট নিয়েই পুরো বিশ্বকাপে খেলেছেন আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক। ভাঙা আঙুলের সমস্যার মধ্যেও ফাইনালে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন তিনি। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মার্তিনেজ।
১১ সেভে নতুন বিশ্বকাপ রেকর্ড
ফাইনালে ১১টি সেভ করে পুরুষদের বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সেভের নতুন রেকর্ড গড়েন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ ৯টি সেভের রেকর্ড ছিল।
ম্যাচজুড়ে লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, পেদ্রি, মার্ক কুকুরেয়া এবং ফেরান তোরেসের একাধিক আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন তিনি। তবে অতিরিক্ত সময়ের শেষ ভাগে তোরেসের শট আর ঠেকাতে পারেননি।
একের পর এক দুর্দান্ত সেভ
ম্যাচের শুরুতেই ইয়ামালের শট প্রতিহত করেন মার্তিনেজ। এরপর মিকেল ওইয়ারসাবাল, আলেক্স বায়েনা, ফেরান তোরেস এবং পেদ্রির নিশ্চিত গোলের সুযোগও নষ্ট করে দেন তিনি।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিকও অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক। তার দৃঢ়তায়ই ৯০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকে ম্যাচ।
ট্রফি না পেলেও জিতলেন সম্মান
২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালেও অসাধারণ গোলকিপিং করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন মার্তিনেজ। এবারও ফাইনালের আগে জানিয়েছিলেন, আঙুলের চোট তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে দেবে না। মাঠে সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন দেখা গেছে।
তবে ব্যক্তিগতভাবে ইতিহাস গড়লেও দলের শিরোপা রক্ষা করতে না পারায় বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেদনাদায়ক রাতের সাক্ষী হতে হয়েছে তাকে। ১১টি সেভের রেকর্ড গড়েও ট্রফিবঞ্চিত হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ট্র্যাজিক হিরো’ হিসেবেই মাঠ ছাড়লেন এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।