১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে স্পেন। রোববার বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেছে লা রোহা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল, পাসিং ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। পঞ্চম মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেন লামিনে ইয়ামাল। তবে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা।
প্রথমার্ধজুড়েই স্পেন ছিল স্পষ্টতই এগিয়ে। তারা একাধিক আক্রমণ শানালেও গোলের দেখা পায়নি। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা প্রথম ৪৫ মিনিটে উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি। বলের দখল এবং নিখুঁত পাস—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দৃঢ়তায় গোলবঞ্চিত থাকে স্পেন। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে খুব একটা কার্যকর হতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে বড় ধাক্কা খায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। স্প্যানিশ এক খেলোয়াড়কে বেপরোয়া ট্যাকলে ফাউল করায় এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।
অতিরিক্ত সময়ের ৯৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে হতাশ হতে হয়নি স্পেনকে। ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। তবে ১০ জনের দল নিয়ে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা নিজেদের করে নিল ইউরোপের এই দল। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে কান্নায় ভাসতে হলো আর্জেন্টিনাকে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।