সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা সাবেক মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, দীর্ঘ নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য শনাক্তের মাধ্যমে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মোজাফফর হোসেনের মেয়ের কর্মস্থলকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি চালানো হয়। তদন্তের একপর্যায়ে বনানী ডিওএইচএসের একটি বাসা চিহ্নিত করা হয়। পরে ছদ্মবেশে ওই বাসার ওপর নজরদারি চালিয়ে সন্দেহভাজনের পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা করেন গোয়েন্দারা।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় সাধারণ পোশাকে কয়েকজন কর্মকর্তা বাসায় গিয়ে নিজেদের মেয়ের কর্মস্থলের সহকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। দরজা খোলার পর এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি সামনে এলে কর্মকর্তারা তাঁর নাকের নিচে থাকা একটি জন্মদাগ লক্ষ্য করেন, যা তদন্তে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়। পরে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজের নাম মোজাফফর বলে পরিচয় দেন। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থান এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে মোজাফফর হোসেনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলায় সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে রায় কার্যকরের আগে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, দীর্ঘ সময় তিনি বিদেশে ভিন্ন পরিচয়ে অবস্থান করেন এবং পরে গোপনে দেশে ফিরে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে জীবনযাপন করছিলেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেন একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখানে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিভিন্ন দিক এবং দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার বিষয়টি নিয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।