১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩টি দল। এরপর সময়ের সঙ্গে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বেড়ে ১৬, ২৪ এবং সর্বশেষ ৩২-এ দাঁড়ায়। ২৩তম আসরে এসে নতুন রূপ পেয়েছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আয়োজন। এবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলছে ৪৮টি দেশ।
দল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিফার আয় ও বিশ্বকাপের প্রাইজমানিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এবারের আসরে মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি।
বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি বড় অংশ ফিফা সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) দেশের ফুটবলের উন্নয়ন ও গেম ডেভেলপমেন্টের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ পেতে যাচ্ছে।
সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে আয় করে, তার একটি অংশ বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে দেওয়া হয়। সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে সহায়তা করাই ফিফার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়লে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বকাপে খেলার আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা বাড়ে। কারণ, দল বাড়ার ফলে তুলনামূলকভাবে বেশি দেশের সামনে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তৈরি হয়।
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও যাতায়াত খরচ বাবদ শুরুতেই পেয়েছে ২.৫ মিলিয়ন ডলার। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার।
পরবর্তী ধাপগুলোতে পুরস্কারের অঙ্ক আরও বেড়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে বাদ পড়া দলগুলো পেয়েছে ১২ মিলিয়ন এবং শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ১৬ মিলিয়ন ডলার করে। কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়া চার দল পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার করে।
এ ছাড়া চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন, তৃতীয় স্থান পাওয়া দল ২৯ মিলিয়ন এবং রানার্সআপ দল ৩৩ মিলিয়ন ডলার। আর বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য বরাদ্দ রয়েছে রেকর্ড ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।