রাস্তার ধারে যেখানে-সেখানে প্রস্রাব, থুতু বা পানের পিক ফেলা রোধে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের আসামের তিনসুকিয়া পৌরসভা। প্রচারণা, জরিমানা ও অভিযানেও কাঙ্ক্ষিত ফল না মেলায় এবার শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে বড় ডিজিটাল স্ক্রিন, যেখানে নিয়ম ভঙ্গকারীদের ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।
পৌরসভার তথ্যমতে, সিসিটিভি ক্যামেরায় কেউ রাস্তার পাশে বা দেয়ালের গায়ে প্রস্রাব করতে ধরা পড়লে তার ভিডিও বা ছবি তাৎক্ষণিকভাবে ওই ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে। এতে ঘটনাটি জনসম্মুখে চলে আসছে।
‘হল অব শেম’ উদ্যোগ
এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Hall of Shame’ (হল অব শেম)।
পৌর কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, জনসম্মুখে লজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা মানুষকে এমন অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করবে এবং শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রশংসা ও বিতর্ক
উদ্যোগটি অনেকের কাছে অভিনব ও কার্যকর হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। তাদের মতে, শুধুমাত্র জরিমানা দিয়ে যখন কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি, তখন সামাজিক জবাবদিহিতাভিত্তিক এই ব্যবস্থা আচরণগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
নাগরিক অধিকারকর্মীদের একাংশের দাবি, কোনো ব্যক্তির ছবি বা ভিডিও প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। তাদের মতে, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
এখন দেখার বিষয়, তিনসুকিয়া পৌরসভার এই ‘হল অব শেম’ উদ্যোগ বাস্তবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাস্তার ধারে প্রস্রাব করার প্রবণতা কমাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।