২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষের পথে। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের ১০০টি ম্যাচ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে দুই সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনালসহ মাত্র চারটি ম্যাচ।
আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। শিরোপার লড়াইয়ে এখনও টিকে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন।
বিশ্বকাপের ১০০ ম্যাচ শেষে বিভিন্ন বিভাগে তৈরি হয়েছে বেশ কিছু নতুন রেকর্ড ও আলোচিত পরিসংখ্যান।
গোলে ভরপুর বিশ্বকাপ
এ পর্যন্ত ১০০ ম্যাচে মোট ২৯২টি গোল হয়েছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ গোলসমৃদ্ধ আসরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তুলনায় ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে মোট গোল হয়েছিল ১৭২টি।
দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি ১৭টি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। ফ্রান্স করেছে ১৬টি, ইংল্যান্ড ১৩টি এবং স্পেন ১১টি। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ খেলেও কোনো গোল করতে পারেনি পানামা।
অ্যাসিস্টে সবার ওপরে ফ্রান্স
দলগত অ্যাসিস্টের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স, তাদের অ্যাসিস্ট ১৪টি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড সমান ১০টি করে অ্যাসিস্ট করেছে। স্পেনের অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৮।
সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল বেলজিয়াম
প্রতিপক্ষের গোলমুখে সবচেয়ে বেশি শট নেওয়া দলের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে বেলজিয়াম। তারা মোট ১১২টি শট নিয়েছে। স্পেন ও ফ্রান্সের শট ১১০টি করে, আর আর্জেন্টিনার ৯৮টি।
পাসিংয়ে আধিপত্য আর্জেন্টিনার
বল দখল ও পাসিং ফুটবলে সবার চেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। দলটি ৪ হাজার ১৬২টি সফল পাস দিয়েছে, যার সফলতার হার ৯১ শতাংশ। স্পেন রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে, তাদের সফল পাস ৪ হাজার ৭৫টি।
রক্ষণে সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেন
১০০ ম্যাচ শেষে সবচেয়ে কম গোল হজম করেছে স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল গেছে ২টি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড উভয়েই হজম করেছে ৬টি করে গোল।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ১২টি করে গোল হজম করেছে ইরাক ও তিউনিশিয়া।
আত্মঘাতী গোলে নতুন বিশ্বরেকর্ড
২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই আত্মঘাতী গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে। ১০০ ম্যাচ শেষে আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল হয়েছিল ১২টি।
কাতার ও মিশরের ফুটবলাররা সবচেয়ে বেশি দুটি করে আত্মঘাতী গোল করেছেন।
ফাউলে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড
সবচেয়ে বেশি ফাউল করেছে সুইজারল্যান্ড, তাদের ফাউলের সংখ্যা ৮৯। মরক্কো করেছে ৮৮টি এবং ইংল্যান্ড ৮৭টি। আর্জেন্টিনার ফাউল ৬৮টি।
লাল কার্ডেও রেকর্ড
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৪টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। যা ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে প্রদর্শিত মোট লাল কার্ডের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি দুটি করে লাল কার্ড দেখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা ও কাতারের ফুটবলাররা।
হলুদ কার্ড ও অফসাইড
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২৫৭ জন খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেছেন। দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি ১২টি হলুদ কার্ড পেয়েছে মিশর।
অফসাইডে সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে কলম্বিয়া, ১৯ বার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা, যারা ১৮ বার অফসাইড হয়েছে।
গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা
গোলরক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সেভ করেছেন প্যারাগুয়ের অরল্যান্ডো গিল। তিনি এখন পর্যন্ত ২৮টি সেভ করে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন।
বিশ্বকাপ শেষ হতে বাকি মাত্র চার ম্যাচ। ফলে গোল, রেকর্ড এবং পরিসংখ্যানের তালিকায় আরও নতুন সংযোজনের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।