বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের অগ্রযাত্রায় যুক্ত হয়েছে আরও চারটি কারখানা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত LEED (Leadership in Energy and Environmental Design) সবুজ ভবন সনদ অর্জনের মাধ্যমে দেশে সবুজ সনদপ্রাপ্ত তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০টি।
বর্তমানে এসব কারখানার মধ্যে ১২৫টি প্লাটিনাম, ১৪৫টি গোল্ড এবং বাকিগুলো সিলভার ও সার্টিফায়েড পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি সবুজ কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের কারখানার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৩টি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নতুন সনদ পাওয়া কারখানা
নতুন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চারটি কারখানার মধ্যে-
- ক্যানভাস গার্মেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড (চট্টগ্রাম) – প্লাটিনাম, স্কোর ৯০
- ম্যাট্রিক্স সোয়েটার্স লিমিটেড (গাজীপুর) – প্লাটিনাম, স্কোর ৮৮
- করিম টেক্সটাইলস লিমিটেড (কালিয়াকৈর, গাজীপুর) – গোল্ড, স্কোর ৭৩
- করিম টেক্স লিমিটেড (ধামরাই, ঢাকা) – সিলভার, স্কোর ৫৩
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই স্বীকৃতি?
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক পোশাক বাজারে এখন শুধু প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নয়, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থাও ক্রেতাদের অন্যতম প্রধান শর্তে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো কারখানার-
- জ্বালানি দক্ষতা,
- কার্বন নিঃসরণ কমানো,
- পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার,
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা,
- এবং শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশ
বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী
গত এক দশকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে সবুজ বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে দেশের কারখানাগুলো ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করছে।
শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, LEED সনদ শুধু পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতি নয়, এটি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি LEED সনদপ্রাপ্ত তৈরি পোশাক কারখানা বাংলাদেশের, যা দেশের টেকসই শিল্পায়নের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।